Disable Preloader

Health Tips Details

  1. ছেলেবেলা থেকেই দাঁত ও মাড়ির যথাযথ যত্ন নেওয়া সবার জন্য একান্ত জরুরি। শুরুটা অভিভাবকদেরই করতে হবে। কিন্তু কখন ও কিভাবে করতে হবে এসব বিষয়ে অনেকে অবগত নয়। পরামর্শ দিয়েছেন ফরাজী ডেন্টাল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের ডেন্টাল সার্জন ডা. শারমীন জামান

❏ শিশুরা সব দাঁত মুখে নিয়েই জন্মায়, যদিও সেটা দৃশ্যমান নয়। কারণ তাদের দাঁতগুলো মাড়ির মধ্যে লুকিয়ে থাকে। মাড়ি ভেদ করে দাঁতগুলো ওঠা শুরু করে ছয় মাস বয়স থেকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম দাঁত ওঠার আগ থেকেই নবজাতক শিশুদের মাড়ির যত্ন নিতে হবে। কারণ সুস্থ মাড়িই নিশ্চিত করবে সুস্থ দাঁত।

❏ প্রতিবার খাওয়ার পর একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শিশুর মাড়ি মুছে দিতে হবে। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করবে, যা দাঁত ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

❏ দাঁত ওঠার শুরু থেকেই ফ্লোরাইড আছে এমন টুথপেস্ট খুব অল্প পরিমাণে নিয়ে সফ্ট টুথব্রাশ দিয়ে দিনে দুইবার ব্রাশ করাতে হবে।

❏ বোতল ফিডিং করে এমন শিশুদের খাবার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোতল বের করে নিতে হবে। এতে নার্সিং বোতল কেরিজের মতো দাঁত ক্ষয় দূর হবে। নার্সিং বোতল কেরিজ তখনই হয়, যখন শিশুরা অনেকটা সময় নিয়ে দুধ বা জুসের মতো মিষ্টি পানীয় মুখে রেখে খায়। অনেকে সেটা মুখে নিয়ে ঘুমিয়েও পড়ে।

❏ এক বছর বয়সের আগেই অথবা প্রথম দাঁত ওঠার পরপরই একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

❏ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মুখের পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

❏ তিন বছর বয়সে সব দাঁত উঠে যায়, এগুলোকে দুধদাঁত বা প্রাইমারি টুথ বলে। এগুলো ছয় বছর বয়স থেকে আবার পড়তে শুরু করে স্থায়ী দাঁত উঠতে থাকে। এ সময় দাঁতগুলোর মাঝে কিছুটা ফাঁকা থাকে, যা খুবই স্বাভাবিক। এ ফাঁকা অংশগুলো স্থায়ী দাঁতগুলো পূরণ করে। শিশুদের ১৩ বছর বয়সের মধ্যে সব স্থায়ী দাঁত চলে আসে। 

❏ তিন বছর বয়স পার হলে দাঁতের যত্নের ধরন পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

❏ খুব সামান্য পরিমাণে ফ্লোরাইডসমৃদ্ধ টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে, শিশু যেন টুথপেস্ট গিলে না ফেলে। এ সময় কমপক্ষে দুই মিনিট করে দিনে দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করা নিশ্চিত করতে হবে।

❏ ফ্লসিংয়ের ব্যবহার খুবই জরুরি। এতে দাঁতের ফাঁকে কোনো খাবার আটকে থাকলে তা বের করা যায়।

❏ প্রয়োজনে প্রতিবার ব্রাশ ও ফ্লসিংয়ের সময় তাকে সাহায্য করুন এবং দরকার হলে তাকে মনে করিয়ে দিন। যদি কিছুই করতে না চায়, তাহলে তুলা বা সুতি কাপড় দিয়ে দাঁতগুলো মুছে দিন।

❏ পেছনের বা মাড়ির দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। শিশুদের জন্য প্রতি ছয় মাস পর পর একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

Share:

Photo Gallery