Disable Preloader

Health Tips Details

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা আমরা বুঝি না এমন প্রবাদ আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। যাঁরা মুখ ও দাঁতের যতœ সঠিকভাবে নেন না, তাঁদের তো বটেই, এমনকি যাঁরা নেন, তাঁদেরও দাঁত পড়ে যায়। বিশেষ করে ক্যারিজ হয়ে বহু সময়ই দাঁত এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে, আর তা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। মাঢ়ির অসুখের (জিনজিভাইটিস ও পেরিওডন্টাইটিস) কারণেও দাঁত হারানোর ঘটনা ঘটে।এখন ওই ক্ষেত্রে হারানো দাঁতের প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দাঁত প্রতিস্থাপনের জন্য বর্তমানে দেশে অন্যতম পদ্ধতি হলো ইমপ্ল্যান্ট।

অনেক রোগী আমাদের কাছে আসেন যারা ইমপ্ল্যান্ট সম্পর্কে জানতে চান, কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সঙ্কিত হয়ে পড়েন, আবার অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। আপনার জন্যই এই বিষয়টি সম্পর্কে লিখছি। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ব্রিজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপায়ে নকল দাঁত প্রতিস্থাপন করেন। এ সমস্ত নকল দাঁত বসানোর চিকিৎসা মধ্যবিত্তদের হাতের নাগালে হলেও এই চিকিৎসার কিছুটা নেতিবাচকতা রয়েছে। কারণটা হচ্ছে ব্রিজ করতে পাশের দাঁতের সাহায্য নিতে হয়। এক সময় পাশের দাঁতও ক্ষতিগ্রস্তু হয়। ডেঞ্চারের মাধ্যমেও অনেকে নকল দাঁত প্রতিস্থাপন করেন। এই চিকিৎসা ব্যয় হাতের নাগালে থাকলেও এটা পড়ে অস্বাভাবিক বোধ করেন প্রায় সকলেই।

ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টে এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধান করেছে। পাশের দাঁত বা দাঁতগুলোকে সাপোর্ট (এ্যাবাটমেন্ট) হিসেবে ব্যবহার না করে হাড়ের ভেতর কৃত্রিম শিকড় (টাইটানিয়াম কোটিং ফিকচার) বসিয়ে একেবারেই আসল দাঁতের মতো দাঁত তৈরি করা যায়, ব্যবহারও করা যায় তেমনভাবেই। উন্নত দেশগুলোতে এই ইমপ্ল্যান্ট শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে। গত কয়েক বছরে ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের দেশে আগে ইমপ্ল্যান্ট হতো না। কিন্তু এখন হচ্ছে; এবং উন্নত বিশ্বের মতো একই পদ্ধতিতে। ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ে দেশের বেশ কয়েকজন ডেন্টিস্ট বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

ইমপ্ল্যান্টের সুবিধা : ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতি হুবহু আসল দাঁতের মতো দেখতে এবং ব্যবহার পদ্ধতিও একই।

পাশের দাঁতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। বিনা স্পর্শেই হারানো দাঁত প্রতিস্থাপন করা যায়, যা ব্রিজ পদ্ধতিতে করা যায় না।

ইমপ্ল্যান্ট স্থায়ী পদ্ধতি। বার বার পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন পড়ে না। সারা জীবনই ব্যবহার করা যায়।

অনেকেই ডেঞ্চার (নকল দাঁত) ব্যবহারের কারণে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চারণও যথাযথ হয় না। ইমপ্ল্যান্টে এ ধরনের কোন অসুবিধা হয় না। বাড়তি দাঁত লাগানো হয়েছে এমন অস্বস্তিও লাগে না।

যে কোন সার্জারির ক্ষেত্রে রোগীর জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যেমন রোগীর স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যা আছে কি না, এটা বিবেচনায় নিতে হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অন্যান্য রোগ যেগুলো আছে, সেগুলোরে ক্ষেত্রে কিছু কিছু সার্জারির সীমাবদ্ধতা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগী বয়সেরও একটি বিষয় আছে। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকে। তবে সঠিকভাবে কেস নির্বাচন করলে সফলতার হার ৯৮ শতাংশ। (ইমপ্ল্যান্ট সোসাইটির গবেষণা তথ্য) এই চিকিৎসা সারা বিশ্বেই অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে এই চিকিৎসা প্রসার লাভ করায় ব্যয়ও এখন অনেকটা কমে এসেছে।এ বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। অনেক সমযই দেখা যায়, খরচ বিবেচনায় অনেক প্রবাসী দেশে এসে ইমপ্ল্যান্ট করছেন। চিকিৎসা শেষে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছেন।

ডাঃ শারমীন জামান

ডেন্টাল সার্জন, ফরাজী ডেন্টাল হসপিটাল

Share:

Photo Gallery